• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
ad728" title="ad728">

গাজীপুরে একই রাতে দুই পক্ষের লুণ্ঠন ও পাল্টা অভিযোগ: এলাকায় উত্তেজনা


FavIcon
ভোরের আলো অনলাইন
০৮ November ২০২৫ ইং
ছবির ক্যাপশন: ad728

গাজীপুর, শ্রীপুর প্রতিনিধি: 
​গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা মডেল থানা এলাকার মুলাইদে একই রাতে (০৭/১১/২০২৫) সংঘটিত দুটি গুরুতর অপরাধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মুলাইদের রঙ্গিলা বাজার সংলগ্ন এই এলাকায় মাত্র একদিনের ব্যবধানে দুই পক্ষ থানায় পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এতে দুটি লুণ্ঠনের ঘটনার নেপথ্যে ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত বিরোধের যোগসূত্র সামনে এসেছে। দুটি অভিযোগেই মোট প্রায় ৯ লক্ষাধিক টাকার সম্পদ লুট হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
​প্রথম অভিযোগটি দায়ের করেছেন প্রবাসী মোঃ বাদল মিয়া। তার অভিযোগ অনুসারে, শুক্রবার (০৭ নভেম্বর, ২০২৫) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩:৩০ মিনিটের দিকে ৭ জন চিহ্নিতসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জন সশস্ত্র ডাকাত মুলাইদ এলাকার ভাড়া বাড়িতে হানা দেয়। তারা বাদল মিয়ার স্ত্রী মোছাঃ রোকিয়া-কে একাধিক পিস্তলের মুখে জিম্মি করে হত্যার হুমকি দেয়। এ সময় তারা ঘরের ওয়ার্ডড্রবের ড্রয়ার ভেঙ্গে নগদ ৬ লক্ষ টাকা এবং আধা ভরি স্বর্ণের চেইন লুট করে নিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
​অন্যদিকে, এর কয়েক ঘণ্টা আগে, বৃহস্পতিবার (০৭ নভেম্বর, ২০২৫) ভোর ৫টার দিকে মোছাঃ জরিনা নামে এক গৃহবধূ থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগ, তার ভাড়াটিয়ার সঙ্গে পোশাক শিল্প নির্ভর ওয়াজষ্টেজ ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোঃ বাদল ওরফে ওয়েসটিস বাদল (৫০) এবং বাদল ওরফে পিচ্ছি বাদল (৩০) সহ মোট ৫ জন নামীয় সন্ত্রাসী এবং অজ্ঞাত ৭/৮ জন তাদের বাড়ির গেট ভেঙে প্রবেশ করে ভাংচুর ও লুণ্ঠন চালায়।
​এই হামলায় জরিনা ও তার দেবরের বাড়ি থেকে মোট ৪ ভরি স্বর্ণ (প্রায় ৮ লক্ষ টাকা) এবং নগদ প্রায় ৭৬ হাজার টাকা চুরি হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিবাদীরা লুণ্ঠনের পর সুযোগ মতো রাস্তাঘাটে পেলে খুন-জখমের হুমকি দেয় এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকিও প্রদান করে।
​এলাকার সূত্র জানায়, মুলাইদের রঙ্গিলা বাজার পোশাক শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন হওয়ায় এখানে ওয়াজষ্টেজ (ঝুট) ব্যবসা প্রচলিত। এই এলাকায় ওয়েসটিস বাদল (৫০) ও পিচ্ছি বাদল (৩০) নামে দুইজন ভিন্ন ব্যক্তির বিচরণ রয়েছে। ব্যবসায়িক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এখানে প্রায়শই দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।
​এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রথম অভিযোগের ভুক্তভোগী প্রবাসী মোঃ বাদল মিয়া মুলাইদের জনৈক শারফুর-এর বাসায় ভাড়া থাকতেন। কিন্তু দ্বিতীয় অভিযোগে হামলাকারী হিসেবে অভিযুক্তদের মধ্যে মোঃ বাদল ওরফে ওয়েসটিস বাদল, বাদল ওরফে পিচ্ছি বাদল এবং শারফুল-এর নাম রয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি লুণ্ঠনের ঘটনা এবং দুই অভিযোগের বিবাদীদের মধ্যে যোগসূত্র থাকায়, পুলিশ এবং স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন উঠেছে—এই ঘটনা কি বিচ্ছিন্ন ডাকাতি নাকি ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো গভীর বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
​শ্রীপুর মডেল থানা কর্তৃপক্ষ দুটি অভিযোগই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে জিডিভুক্ত করেছে। এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, "আমরা উভয় অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছি। দুটি ঘটনা একই রাতে একই এলাকায় সংঘটিত হওয়ায় বিষয়টি জটিল। দ্রুত একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"