প্রিন্ট এর তারিখঃ ১৭ May ২০২৬ ইং || প্রকাশের তারিখঃ ১৪ July ২০২৫ ইং
শ্রীপুরে গ্রামবাসীদের উদ্যোগে নির্মিত হলো কাঠের সেতু

মোঃ মেহেদী হাসান: গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রায় চার মাস ধরে ভেঙে থাকা একটি সাঁকোর কারণে হাজারো মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়েছেন স্থানীয় গ্রামবাসী। নিজেদের চাঁদা ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে তারা সেখানে একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করেছেন।
শ্রীপুর পৌরসভার
শিল্পাঞ্চল খ্যাত বংশিঘাটা এলাকায় অবস্থিত এই সেতুটি ৯ নম্বর ওয়ার্ড ও ৭ নম্বর
ওয়ার্ডকে সংযুক্ত করেছে। প্রায় ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের ১০ বছর পুরোনো বাঁশের সাঁকোটি
দুই মাস আগে ভেঙে গিয়েছিল, যার ফলে দৈনিক অন্তত হাজারখানেক শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ
পোহাতে হচ্ছিল। সাঁকোর দুই পাশে পাঁচটি শিল্পকারখানা থাকায় প্রতিদিন অসংখ্য
মানুষকে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে কর্মস্থলে যেতে হতো।
স্থানীয়রা
জানান, দুর্ভোগের বিষয়ে
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও সংস্কারের জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি।
অবশেষে গত শুক্রবার গ্রামের ৫০-৬০ জন মানুষ একত্রিত হয়ে সাঁকোটি সংস্কারের উদ্যোগ
নেন। দুই দিনের অক্লান্ত শ্রম ও অর্থ দিয়ে শনিবার রাতে তারা কাঠের সেতু নির্মাণের
কাজ শেষ করেন।
স্থানীয়
বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী কাইয়ুম সরকার বলেন, "এত মানুষকে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে কাজে
যেতে হচ্ছিল। তাই আমরা নিজেরাই এটি সংস্কারের উদ্যোগ নিই।" তিনি তার কাঠ
চেরাই কল থেকে বিপুল পরিমাণ কাঠ এই সংস্কার কাজে দিয়েছেন।
মো. শফিকুল
ইসলাম নামের একজন শ্রমিক জানান, কারখানায় যাওয়া-আসা এবং দুপুরের খাবারের বিরতিতে বাসায় ফিরতে শ্রমিকদের
চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কাঠের সেতু নির্মাণ হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ কমেছে।
স্থানীয়
পরিবেশকর্মী খোরশেদ আলম বলেন,
"শনিবার রাতে কাঠের সেতু নির্মাণ শেষ হয়েছে। রোববার সকাল থেকে
শ্রমিক ও গ্রামবাসী এটি ব্যবহার করছেন। মানুষের ঐক্য আর মহানুভবতার কাছে কোনো
সমস্যাই বড় নয়।" তবে তিনি মন্তব্য করেন, জনদুর্ভোগ
কমাতে সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের এগিয়ে আসা উচিত ছিল।
এ বিষয়ে
শ্রীপুর পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী শাহেদ আক্তার জানান, গ্রামবাসীর উদ্যোগে কাঠের সেতু নির্মাণের
বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে বংশিঘাটায় একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তুতি
নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ব্যয়বহুল হওয়ায় পৌর কর্তৃপক্ষ এই সেতুতে
অর্থায়ন করতে পারবে না এবং এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে
তিনি জানান।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ভোরের আলো টুয়েন্টি ফোর